উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য এখানকার লোকজন সাধারণত ছিল উগ্রমেজাজী,কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁরা গভীরভাবে চিন্তা করতে পারত না।পক্ষান্তরে,মদীনা অঞ্চলের আবহাওয়া মক্কার মত ছিল না।তাই প্রকৃতিগত মদীনার অধিবাসীরা দয়ালু,সুবিবেচক এবং চিন্তাশীল ছিল।এ কারণেই ইসলাম প্রচারের পরিবেশ মক্কা থেকে মদীনায় খুব অনুকূল বলে হযরত মুহাম্মদ(সা.)মদীনা গমনের জন্য উৎসুক ছিলেন।
আর এটাও দেখা যায় যে,কোনো নবী-রাসূলই প্রথমতঃ তার জন্মভূমিতে স্বীকৃতি লাভ করেননি,রাসূলে আকরাম (সা.)-এর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।তিনি মক্কাবাসীদের দ্বারা লাঞ্ছিত,নির্যাতিত,উৎপীড়িত আর অবহেলিত হয়েছিলেন।
পক্ষান্তরে,মদীনার লোক তাকে মদীনায় আসার জন্য সাদর আহ্বান জানালেন।এ আহ্বান পাওয়ার পর তার মন যে মদীনার উপর আকৃষ্ট হয়েছিল তা সুনিশ্চিত। তাছাড়া মক্কার ইসলাম বিরোধীগণ ইসলামকে যেমন নির্মূল করার জন্য বদ্ধপরিকর ছিল, প্রাকৃতিক কারনের জন্য মদীনার ইসলাম বিরোধীগণ তত বেশী খারাপ ছিল না।
সর্বোপরি রাসূলে আক্রাম(সা.)-এর পিতৃব্য আবু তালিব রাসূলে আকরাম (সা.)-এর উপর শত্রুদের আক্রমণের মোকাবেলায় সুদৃঢ় ঢালস্বরূপ ছিলেন।অতি বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী রক্ষক ছিলেন।কুরাইশগণ যদিও রাসূলে আক্রাম(সা.)-কে নির্যাতন ও নিপীড়ন করতে কোন সুযোগই বাকী রাখেনি,তবু আবু তালিবের জীবদ্দশায় তাঁকে কেউ মৃত্যুর ভয় দেখাতে সাহস পায়নি।কিন্তু আবু তালিবের মৃত্যুর পর মক্কাবাসী কুরাইশগণ তার প্রতি অমানুষিক অত্যাচার করার সুযোগ পেল,এমনকি তার ও তার অনুসারীদের জীবন শেষ করার ষড়যন্ত্র করতে লাগল।মোটকথা,তাদের এ রকমের কার্য-কলাপ রাসূলে আক্রাম(সা.)-কে ধর্ম প্রচারের জন্য একটি নতুন এবং নিরাপদ স্থান খুঁজে বের করতে বাধ্য করল।
মদীনা ঠিক এরূপ একটি স্থান বিবেচিত ও প্রমানিত হওয়ায় রাসূলে আক্রাম(সা.)তার অনুসারীদেরকে মদীনায় যাওয়ার নির্দেশ দান করলেন।তখন মক্কার মুসলমানগণ সময় ও সু্যোগ মত ছোটো ছোটো দলে আস্তে আস্তে মদীনায় গিয়ে একত্র হতে লাগলেন।অবশ্য তাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনেরও অনুমতি ছিল।কিছুদিনের মধ্যেই এভাবে মক্কার প্রায় সকল মুসলমানই মদীনায় চলে গেল।

0 মন্তব্যসমূহ
আপনার মন্তব্য পেশ করুন...