একদিন রাতে তাঁর (হাজি মুহম্মদ মুহসীন-এর)ঘরে এক চোর ধরা পড়ল।চোর ভাবল এবার প্রাণটাই বুঝি যায়!কিন্তু গৃহকর্তা চোরকে কোনো শাস্তি না দিয়ে চোরের অভাবের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন।তাঁকে খবার,টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় করলেন।
এমন মানবদরদি মানুষটি হলেন হাজি মুহম্মদ মুহসীন।অগাধ পান্ডিত্য ছিল ইতিহাস ও বীজ গণিতে।অশ্বারোহণ ও অস্ত্র চালনায় ছিলেন পারদর্শী।নিজ হাতে রান্না করে খেতেন তিনি।মানুষকেও খাওয়াতেন।মহসীন ছিলেন সংসারবিরাগী মানুষ।ঘর-সংসার,ধন-দৌলতের প্রতি তাঁর কোন লোভ ছিল না।বৃদ্ধ বয়সে তিনি স্থির করলেন তাঁর বিশাল সম্পত্তি তিনি মানব জাতির কাজে ব্যয় করবেন।দেশের দ্বীন-দুঃখী ও দুস্থদের সেবায় তিনি নিজের সব কিছু বিলিয়ে দেবেন।তার সম্পত্তির অধিকাংশই তিনি ব্যয় করেন শিক্ষার উন্নয়নের জন্য।তৎকালীন অনগ্রসর মুসলিম সমাজে শিক্ষাবিস্তারের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন অনেক গুলো স্কুল,কলেজ।মুসলমান ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রবর্তন করলেন মহসীন বৃত্তি।গঠিত হল মহসীন ফান্ড।
ভারতের মুসলমান ছেলে মেয়েরা এই ফান্ড থকে আজো বৃত্তি পেয়ে থাকে।তিনি প্রতিষ্ঠা করেন হুগলীর ইমামবাড়া,হুগলী মহসীন কলেজ।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনাথদের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন কয়েকটি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র।তিনি রাতে সাথে টাকা নিয়ে ছদ্ম বেশে শহরের অলি-গলিতে ঘুরে বেড়াতেন।দ্বীন-দুঃখী,অন্ধ,যাকে সামনে পেতেন তাঁকে মুক্ত হস্তে দান করতেন।
হাজি মুহম্মদ মুহসীন জন্মেছিলেন ১৭৩২ সালের ১ আগস্ট।তার পিতা হাজি ফয়জুলাহ।জানা যায়,তার পূর্বপুরুষেরা এসেছিলেন সুদূর ইরান বাঁ পারস্য থেকে।তবে তাঁদের আদি বাস ছিল আরবে।
আরবি-ফারসি ভাষাশিক্ষায় মুহসীন অসাথারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন।চট্ট্রগ্রাম ও খুলনার হাজি মুহসীন কলেজ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হাজি মুহাম্মদ মুহসীনের নামে ছাত্রাবাস আছে।
মানব দরদি মুহসীন ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন।ইমাম্বাড়ার পাশের বাগানে তাঁকে দাফন করা হয়।
লেখা সংগৃহীতঃকাগজ বার্তা(মাগ্যাজিন থেকে......)


0 মন্তব্যসমূহ
আপনার মন্তব্য পেশ করুন...