Header Ads Widget

মনবতা আসলে কী?

মনবতা আসলে কী?
প্রথমে আপনারা পাশের ছবিটি দেখে,১মিনিট ভাবার পর বলুন ছবিটি দ্বারা কী বুঝলেন।প্রথমে ছবিতে কী ফুটে উঠেছে তা জানা দরকার।ছবিটিতে স্পষ্টত ফুটে উঠেছে আজকের সমাজের মনবতার অভাবের দৃশ্য।আজকের সমাজে কেউ কেউ কারো খেয়াল রাখে না।সমাজের অধিকাংশ মানুষই প্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি লক্ষ্য না করে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি লক্ষ্যপাত করে।যা আমরা পাশের ছবিতেই দেখতে পারছি।ছবিটিতে একজন মহিলা যেকোন কারনেই হোক মারা গেছেন।তার প্রতি (ছবির) পাশের লোকগুলো দৃষ্টিপাত না করে,রাস্তায় কেউ একজন পানি ফেলে চলে গেছে সেইটা নিয়ে তাঁদের মাথা ব্যথা বেশি।একজন মানুষ মারা গেছে(রাস্তায়)সেইটা তাঁদের কাছে বড় কোন ব্যাপার না।আমাদের সমাজে ঠিক এই অবস্থাই বিরাজমান।আমরা শুধু মানুষের ছোট ছোট ভুলের দিকে তাকাই ,তাঁর বড় ভুলের দিকে তাকাই না।বড় ভুলটা কী?_ মনবতার অভাব।আজ আমাদের মনবতা নেই বলেই,অন্য একজন মানুষের জীবনের গুরুত্ব দেই না।(মানুষ্টি পুরুষ বাঁ নারীই হোক।)আমাদের মনভাব হলো একটি প্রবাদের মতো___নিজে বাচলে বাপের নাম।আমরা মনবতার অভাবে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছি যে,কাউকে সাহায্য করতে গেলে আমাদের রুচিতে বাধে।সমাজের কিছু লোক আছে যারা শুধু অন্যের ভুল ধরে বেড়াই।তাদের ভুলগুলো তাঁরা চোখেই দেখে না।আমরা প্রায় দেখতে পাই যে,কেউ একজন বিপদে পরেছে,তা আমরা দেখেও না দেখার ভান করি।কেউ বিপদে পরে সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করি না।আমাদের সামনে কেউ একজন হোঁচট খেয়ে পরে গেলেও তাঁকে উঠাতে যায় না।আমরা এক এমন পর্যায়ে আছি জেখানে,নিজের সামনে ,নিজের চোখের সামনে একজন আরেকজনকে মেরে চলে যাচ্ছে,কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না।এখন আসল কথা হচ্ছে,

মানবতা আসলে কী?

মানবতা বলতে গেলে একটি উপায় হিসেবে তাঁকে ধরা যায়।আমরা বলতে পারি,যে উপায়ের মাধ্যমে সমাজের সকল মানুষের উপকার ও বিশেষ করে বিপদের সময় সাহায্য করা যায় তাকেই মানবতা বলে।

কেউ আমার কাছে সাহায্য চাইল এবং আমি তাঁকে সাহায্য করলাম এটাই মানবতা,একজন ব্যক্তি,অন্য একজন ব্যক্তিকে বিনা কারনে গালিগালাজ করছে,মারছে,নির্যাতন করছে তাঁর বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করাই মানবতার পরিচয়।(তবে এই বিষয়ে আগে আপনাকে নিশ্চিত করে নিতে হবে কার দোষ আছে তারপর আপনি প্রতিবাদ করতে যাবেন,অন্যথায় হিতে বিপরীত হয়ে যাবে।)
কেউ রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পরে গেলে,বা কারো প্রয়োজনীয় জিনিস রাস্তায় পরে গেলে তা উঠিয়ে দেয়া,কারো পণ্যের বোঝা উঠিয়ে দেয়া এসবই মানবতার পরিচয়।

এতো গেল মনবতার পরিচয়।এখন আলোচনা করা যাক,আমাদের সমাজে মানবতার অভাব কেনো।এবং আমরা মানবতার শিক্ষা কীভাবে অর্জন করব।

আমাদের দূর্ভাগ্য যে,আমাদের সমাজে বিশেষ করে পরিবারে মানবতার চর্চা হয় না।আমাদের পরিবার আমাদেরকে সঠিকভাবে মানবতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই না।ফলে আমরা সমাজে মানবতার কাজ করতে পারি না।শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি।একজন মানুষকে মানবতা শিক্ষতে হলে অবশ্যই প্রথমে পরিবার থেকে শিক্ষতে হবে।কারন,পরিবার হচ্ছে শিশুর শাশ্বতবিদ্যালয়।পরিবারের বড়রা যে মানবতার শিক্ষা তাঁকে দিবে সে সেটাই শিক্ষবে।এবং সমাজে তা প্রয়োগ করবে।এ তো গেল পরিবারের কাজ।এখন আসা যাক,সমাজ কীভাবে মানবতার শিক্ষা দিতে পারে।সমাজের মধ্যে সবচেয়ে ,মানবতার শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি শিশুকে পরিপুন্য করতে সহয়তা করে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যারা শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁরা যদি শিক্ষার্থিদের মানবতার কথা পাঠ করান তাহলে তাঁরা মানবতার শিক্ষা পাবে।একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কখনোই উচিৎ হবে না,একজন মানবতাহীণ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে পাঠ দান করাতে ,তাঁকে যুক্ত করা।কারণ একজন মানবতাহীণ শিক্ষক-শিক্ষিকা কখনোই শিক্ষার্থীদের মানবতার জ্ঞান দিতে পারবে না।এই বিষয়ে তাই কঠিন দৃষ্টি রাখতে হবে।  
অন্যথায় ,সমাজের মধ্যে কখনোই মানবতা সৃষ্টি হবে না।আর এতে আমাদের কারোরিই লাভ হবে না ,বরঞ্চ আমাদেরই ক্ষতি হবে।কারণ একদিন  না একদিন আপনিও বিপদে পরবেন আর সে সময় যদি আপনি কারো সাহায্য না পান,তখই বুঝবেন মানবতার কতটা প্রয়োজন এই সমাজে।

তাই আসুন আমরা সবাই নিজ থেকে মানবতার চর্চা করি এবং অন্যকেও মানবতার চর্চা করতে উৎসাহিত করি।


দোয়া করে লেখাটি বেশি বেশি করে শেয়ার করুন।
ভালো থাকবেন ____আসসালামু ওআকাইকুম।



বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান পেতে ঘুরে আসুন আমাদের ফেইসবুক পেজ এ______রকমারি শিক্ষা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Article End Ads