ভাষা প্রযুক্তি।পিপীলিকা ডটকম
শিক্ষার্থী ও অনুষদের জন্য সফটওয়্যার খোজার দায়িত্ব ছিল এলান এমতাজের।তথ্যপঞ্জি ঘেটে ঘেটে কাজটি করতে হতো।দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোজের বাসিন্দা এমতাজের কাছে পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল ক্লান্তিকর।তাই স্বয়ংক্রিয় কোনো উপায় বের করার চিন্তা তাঁকে পেয়ে বসল।তার হাত ধরে এল বিশ্বে প্রথম ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন আর্কি।আর্কাইভের ভি বর্ণ দিয়ে এই নামকরণ।সেটা ১৯৮৯ সালের কথা।
কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এমতাজ যুগান্তকারী এই কৃতিত্বের জন্য তেমন কোনো অর্থকড়ি পাননি।অবশ্য এখনকার বিষয়টা ভিন্ন। গত ২৯ বছরে সার্চ ইঞ্জিন তৈরির কাজ আরও অনেক সহজ হয়েছে।গুগল,বিং,ইয়াহুর মতো সার্চ ইঞ্জিনের কথা তো আমরা সবাই জানি।এসব সার্চ ইঞ্জিনের কার্যকারিতা ও বহুবিধ ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।বাংলায় তথ্য ও বাংলাদেশি বিষয় খোজার জন্য বাংলাদেশি দুটি সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে ইন্টারনেটে।২০১৩ সালে চালু হয় পিপীলিকা ডটকম(www.pipilika.com)।এরপর ২০১৫ সালে আসে বাংলাদেশি আরেকটি সার্চ ইঞ্জিন চরকি ডটকম(www.chorki.com)।বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলেও আছে বাংলা ভাষায় তথ্য খোজার সুবিধা।
পিপীলিকার ডেভেলপমেন্ট ও গবেষক দলের দলনেতার দায়িত্বে আছেন মাহবুবুর রব তালহা।তিনি বলছেন,ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের (এনএলপি)গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই সার্চ ইঞ্জিন।সাম্প্রতিক সংবাদ,কেনাকাটা,চাকরির খোজখবর,বাংলা বানান সংশোধনীসহ বেশ কিছু বিষয় পিপীলিকায় রয়েছে।একই ঘটনার সংবাদ ভিন্ন ভিন্ন খবরের কাগজে ভিন্নভাবে আসে।এই সমস্যা কাটাতে পিপীলিকা নিউজে যুক্ত করা হয়েছে সংবাদগুচ্ছ ফিচার।এই ফিচারটির মাধ্যমে একই ঘটনার সবগুলো পত্রিকার খবরকে একই স্থানে পাওয়া যাবে।এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারীকে ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকা ব্রাউজ করার ঝামেলা থাকবে না।এ ছাড়া ইন্টারনেটে একটি বাংলা শব্দ বাক্যাংশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কী হারে বাড়ছে বাঁ কমছে,তা তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে এনগ্রাম ভিউয়ার ।তবে গুগলের এনগ্রাম ভিউয়ারের সঙ্গে পিপীলিকার একটি প্রধান পার্থক্য হলো,গুগল একটি শব্দ প্রতিবছর কী হারে আসছে তা প্রকাশ করে। কিন্তু পিপীলিকা একটি শব্দ প্রতিদিন কী হারে আসছে,তা-ও প্রকাশ করে থাকে।
যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনের সফলতা মূলত নির্ভর করে তার দেওয়া ফলাফল(সার্চ রেজাল্ট)ঠিক কতটুকু কার্যকর।এ ক্ষেত্রে যদি অনেক বেশিসংখ্যক ফলাফল চলে আসে তাহলে ব্যবহারকারীর জন্য যে তথ্যটি (লিংক)প্রয়োজনীয় হওয়ার সম্ভাবনা যত বেশি,সে তথ্যটি তত ওপরের দিকে থাকবে।গুগলে যখন কোনো বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়,গুগল শত শত কিংবা হাজার হাজার ওয়েব পেইজের লিংক দেয়।কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই ব্যবহারকারী যে বিষয়টি খুজতে চাইছে সেটি প্রথম পৃষ্ঠায়,এমনকি একেবারে প্রথম লিংক হিসেবে দেওয়া থাকে।ঠিক এ ব্যাপারটিই নির্ধারণ করে দেয় একটি সার্চ ইঞ্জিনের মান কোন পর্যায়ের।অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীর মনের কথা বুঝতে পারবে,ব্যবহারকারী কী চায়,সেটি ধারণা করতে পারবে।
বর্তমানে এনএলপি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন।তার মতে,বাংলাদেশের সার্চ ইঞ্জিন গুলোর মূল সমস্যা হলো'ফোকাস'।তিনি বলছেন ,একটি সার্চ ইঞ্জিনকে প্রতিমুহূর্তে ইন্টারনেটে যোগ হতে থাকা বিপুল পরিমাণ তথ্য সম্পর্কে আবগত থাকতে হবে।সাধারণত 'ক্রলিং'এবং 'ইন্ডেক্সিং'য়ের মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি করা হয়ে থাকে।আথচ বাংলাদেশের সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে যে ফলাফল প্রদান করা হয় ,অনেক সময় দেখা যায় সেটি বেশ পুরোনো।উদাহণ হিসেবে 'পিপীলিকা'র কথা ধরা যাক।এই সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ পেজের পাশেই সাম্প্রতিক সর্বশেষ সংবাদের লিংক দেওয়া হয়ে থাকে।কিন্তু সে সংবাদের শিরোনাম কপি করে এনে সার্চ করলেই দেখা যাবে কয়েক বছর আগের ফলাফল(লিংক)প্রদান করছে। সার্চ করার জন্য প্রদত্ত সাজেশনও এখানে অকার্যকর বাঁ আংশিকভাবে কার্যকর।ব্যবহারকারী প্রদত্ত কোনো একটি সার্চের বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফলাফল খুব বেশি পাওয়া না গেলে,সার্চ ইঞ্জিনগুলো সাধারণত ধরে নেয় যে ব্যবহারকারী টাইপ করতে ভুল করেছে এবং ইঞ্জিনগুলো নিজ থেকেই একটি সাজেশন দিয়ে থাকে।সে সাজেশন অনুযায়ী খুঁজলে বেশ কিছু ফলাফল পাওয়ার কথা।কিন্তু পিপীলিকা নিজেই যে সাজেশন দেয়,সেটা দিয়ে সার্চ করলেও কার্যত এটি নিজের সাজেশনে নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে গিয়ে নতুন করে আবারও সাজেশন দেয়।
প্রচলিত জনপ্রিয় ধারার সার্চ ইঞ্জিনগুলোর পরিধি সারা বিশ্ব হলেও চরকি বাংলাদেশকেন্দ্রিক।আপাতদৃষ্টিতে চরকির প্রথম সমস্যা হলো সার্চ রেজাল্ট।কিছু কিছু বিষয়ে সার্চ করলে অনেকটা মুখস্থ বিদ্যার মতো উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ দেখানো ছাড়া বিশেষ আর কিছুই দেখাতে পারে না।বাংলাকেন্দ্রিক এই সার্চ ইঞ্জিনে উদাহণ হিসেবে বাংলাদেশ -সংশ্লিষ্ট শব্দ 'মসলিন','ঢোল,''রবীন্দ্রনাথ',ইত্যাদি দিয়ে সার্চ করে,পুনরায় এই শব্দগুলো গুগল দিয়ে সার্চ করে ফলাফল তুলনা করলেই পার্থ্যকটা বোঝা যায়। বি
বিজ্ঞানচিন্তা প্রতিবেদক
লেখা সংগৃহীত(বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিন থেকে......)
এরকম আরো তথ্য ও জ্ঞান পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেইসবুক পেজ এ_____রকমারি শিক্ষা


0 মন্তব্যসমূহ
আপনার মন্তব্য পেশ করুন...